রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ১২:১৩ অপরাহ্ন

আমরা হেরে যাব কিছু না বুঝেই।

আমরা হেরে যাব কিছু না বুঝেই।

কমল সেন গুপ্ত।। ঈদের ছুটি এসে গেল। এবার ভীড় নেই লঞ্ছের অফিস গুলোতে। তাগাদা নেই অগ্রিম টিকেট কাঁটার। লঞ্চ ঘাঁটে বাঁধা থাকবে না সারি সারি লঞ্চ। পল্টুনে গাদা গাদা মানুষ। শোনা যাবে না লঞ্ছের ঘাট ছাড়ার সাইরেন। বাতাসে সেই শব্দ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই সুর মেলাচ্ছে আরেকটি লঞ্চ। শোনা যাবে না লঞ্চ শ্রমিকের হাক ডাক, এই ছেড়ে গেল ছেড়ে গেল, আসেন আসেন এই লঞ্ছে আসে।দেখা যাবে কিশোর ফেরীওয়ালা। যারা ঈদ মৌসুমের আয় দিয়েই হয়ত মায়ের শাড়ি কিনে দেবে। চোখের ডাক্তারও দেখাবে। থাকবে না সড়কে বাসের সাই সাই গতি। একটু গতি বাড়ালেই ধরা যাবে আর একটি ট্রিপ। সারা দিন সারা রাত। তবুও বন্ধ হয় না বাসের ইঞ্জিন। থামে না স্টিয়ারিং। এবার খা খাঁ করছে লঞ্চ, বাস স্ট্যান্ড। এবার এক ভাইরাসে নিঃস্ব আমাদের দাম্ভিক বিশ্ব। নিঃস্ব দেশ, বরিশাল, লঞ্চঘাট বাসস্ট্যান্ড। বাড়ছে আক্রান্তের মিছিল। থেমে নেই মৃত্যুর মিছিল। মিছিলে যোগ হচ্ছে প্রতিদিন। তবুও মানুষ ঈদের ছুটিতে যেতে চাইছে এ জেলে থেকে ও জেলায়। বরিশাল থেকে চাঁদপুর, বরিশাল থেকে ঢাকা। আবার ঢাকা থেকে বরিশাল। কেউ ভাঙ্গা ভাঙ্গা পথে মাহেন্দ্র, সিএনজি বা মোটর সাইকেল যোগে, কেউ মাইক্রোবাস ভাড়া করে। অনিশ্চয়তার এ যাত্রায় আছে দুঃখ আছে মৃত্যু। তবুও থেমে নেই মানুষ। বেসরকারী চাকুরে এক যুবক জানায় তারা ছয় জন মাইক্রোবাস যোগে চাঁদপুর যাবে মাদারীপুর-শরিয়তপুর হয়ে। ভাড়া জন প্রতি ১০০০ টাকা। বললাম তুমি কি যান তুমি যাত্রা পথে বা চাঁদপুর থেকে করোনা ভাইরাস বহন করে আনতে পারো। যা ছড়াতে পারে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে। আতঙ্কিত চোখে কিছুক্ষনের মধ্যেই নেমে এল আবেগ, কিচ্ছু হবে না। ভাবলাম এই “কিচ্ছু হবে না” তে বিশ্বাস করে কত শত মানুষ। যারা যাবে ঢাকা, চাঁদপুর কিংবা অরক্ষিত নৌ পথে ভোলা হয়ে চিটাগাং বা তার আশ পাশে। বহন করে নিয়ে আসবে সেই মহামান্য অতিথি করোনাকে। মাননীয় রেফারী তাড়াতাড়ি বাঁশী বাজান। এ খেলা বন্ধ করুন। না হোলে কিন্তু খেলা শেষে ফলাফল দাঁড়াবে ১,00,000—O। আমরা হেরে যাব কিছু না বুঝেই।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © বরিশাল টিভি ২০১৭