রবিবার, ২৫ Jul ২০২১, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

অমর সুরস্রষ্টা শহীদ আলতাফ মাহমুদের দর্শন বাংলাদেশের মানুষের জন্য শক্তি ও সাহস।

অমর সুরস্রষ্টা শহীদ আলতাফ মাহমুদের দর্শন বাংলাদেশের মানুষের জন্য শক্তি ও সাহস।

অমর সুরস্রষ্টা শহীদ আলতাফ মাহমুদের দর্শন বাংলাদেশের মানুষের জন্য শক্তি ও সাহস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে তাকে নিজবাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। আর কোন দিন তার দেখা মেলেনি।

১৯৩৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার পাতারচর গ্রামে আলতাফ মাহমুদ জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালে বরিশাল জিলা স্কুল থেকে কোলকাতা বোর্ডের পরীক্ষা আন্ট্রান্স (এস এস সি) পাস ও ব্রজমোহন কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে (আইচ এস সি) ভর্তি হন।

পরে তিনি চিত্রকলা শিখতে ক্যালকাটা আর্টস স্কুলে যান। বিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায়ই এ শিল্পী নিয়মিত গাইতেন। প্রসিদ্ধ ভায়োলিন বাদক সুরেন রায়ের কাছে প্রথম সংগীতে তালিম নেন। তবে জনগণের কাছে তিনি প্রিয় ও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন গণসংগীতের মাধ্যমে। এর মাধ্যমেই তখন চারদিকে তার নাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।

তার সুরে অমর হয়েছে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি’! মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক ও গেরিলাযোদ্ধা হিসেবেও তার অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি তখন একাধারে গানের কাজ করেছেন, পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের পরম আশ্রয় হয়ে ওঠেন। তার বাসায় গেরিলাদের গোপন ক্যাম্প স্থাপন করেন। কিন্তু ক্যাম্পের কথা ফাঁস হয়ে গেলে ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট পাকিস্তান বাহিনী তাকে চোখ বেধে আটক করে নিয়ে যায়। তার সাথে আরও অনেক গেরিলা যোদ্ধাদের নিয়ে যাওয়া হয়। আর কখনো ফেরা হয়নি

পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তার দেশাত্মবোধক গান প্রচারিত হতে থাকে, যা অগণিত মুক্তিযোদ্ধাকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

দেশ স্বাধীনের পর, ১৯৭৭ সালে বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখার তাকে একুশে পদক ও ২০০৪ সালে সংস্কৃতিক্ষেত্রে অসামান্য আবদান রাখায় শহীদ আলতাফ মাহমুদকে স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করা হয়।

২০০৫ সাল থেকে শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে প্রতিবছর আলতাফ মাহমুদ পদক দেয়া হচ্ছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © বরিশাল টিভি ২০১৭